দেশের টিস্যু বাজারের বড় অংশীদার মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও দেশে টিস্যু পেপারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। টিস্যু পণ্যের এ ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাচ্ছে স্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্যবহারকারীর চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পণ্যে বৈচিত্র্যও আনছে উৎপাদকরা। যেমন খাওয়া শেষে হাত-মুখ মোছার জন্য সফট টিস্যু, বাথরুমে ব্যবহারের জন্য টয়লেট টিস্যু, খাবারের প্লেট-গ্লাস মোছার জন্য পেপার ন্যাপকিন সহ অন্যান্য টিস্যু। উৎপাদকরা এর আধুনিকায়নে প্রতিনিয়ত মনোযোগ বাড়িয়েছেন। ফলে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে এগুলোর চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
টিস্যু উৎপাদন ও বাজারজাতের দিকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস্ লিমিটেড । ২০১৭ সালে মেঘনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল এর হাত ধরেই মেঘনার টিস্যু কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে এ কারখানা অবস্থিত। প্রতিষ্ঠাকালে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২০০ জনের অধিক। তবে বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে। কর্মরত শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুসরণ করে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়।
বর্তমানে কারখানাটিতে দুটি টিস্যু মেশিন রয়েছে। এগুলো বিশ্ব বিখ্যাত ইতালি ভিত্তিক টিস্যু মেশিন প্রস্তুতকারক রিকার্ড থেকে আমদানি করা হয়েছে। মাদার মেশিন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিভিন্ন দেশ যেমন চীন, তাইওয়ান থেকে আমদানি করা কনভার্টিং মেশিন রয়েছে। মেশিনগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত কারখানাটির দুটি প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো কিছু টিস্যু প্ল্যান্ট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে মেঘনা গ্রুপের টিস্যু। এসব পণ্য জার্মানি, মরিশাস, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, নেপাল, ভারতসহ অনেক দেশে রফতানি হয়।
বিশ্বে টিস্যু পেপারের প্রথম প্রচলন হয় চীনে, ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে। টয়লেট টিস্যুর প্রচলন শুরু হয় ১৮৫৭ সালে। তবে টিস্যুর জনপ্রিয়তা তৈরি হয় ১৮৯০ সাল থেকে, যখন টিস্যুকে রোল করে আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করা শুরু হয়।
পণ্যবাজার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এর প্রদান করা তথ্য অনুসারে ২০২৪ সালে, বাংলাদেশে টিস্যু ও হাইজিন পেপারের বাজারে আয়ের পরিমাণ ৩ হাজার ৮৫৪ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার। এই বাজার আগামী ৫ বছরে বার্ষিক ৫.৮০% হারে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
আর এই বাজারের সবচেয়ে বড় অংশীদার হলো টয়লেট পেপার, যার পরিমাণ ১ হাজার ১৮১ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার। দ্বিতীয় বড় অংশীদার হলো গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত সকল টিস্যু ও হাইজিন পেপার (পেপার ন্যাপকিন, হ্যান্ড টাওয়েল, ইত্যাদি) যার পরিমাণ ১ হাজার ৫৯ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার।
এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুসারে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৪১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টয়লেট টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়েল, ন্যাপকিনের টিস্যু এবং এ জাতীয় অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ের এই জায়গায় অবদান রাখছে ফ্রেশ টিস্যুও। ফ্রেশ এর টিস্যু জাতীয় পণ্য জার্মানি, মরিশাস, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, নেপাল, ভারত সহ ইত্যাদি দেশগুলোতে রপ্তানি করা হয়। দেশের বাজার বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে অদূর ভবিষ্যতে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
ব্র্যান্ড ফোরামের তথ্যমতে টিস্যু ক্যাটাগরিতে ব্র্যান্ড এর দিক থেকে ভোক্তাদের পছন্দের তালিকায় বর্তমানে ফ্রেশ টিস্যু দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। মেঘনা পাল্প এন্ড পেপার মিলস্ লিমিটেড এর যে সব পণ্য উৎপাদিত হয় সেগুলো হলো: ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়েল, কিচেন টাওয়েল, অল-পারপাস টাওয়েল, ক্লিনিক্যাল বেড শিট, ওয়ালেট টিস্যু, এমজি হার্ড টিস্যু, এমজি পোস্টার পেপার, ম্যানিফোল্ড পেপার, ও অ্যালু-ফয়েল পেপার।
করেছে বাংলাদেশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ২২ মিলিয়ন ডলার। রফতানি আয়ের এ জায়গায় অবদান রাখছে ফ্রেশ টিস্যুও। দেশের বাজার বৃদ্ধির পাশাপাশি রফতানি আয়েও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে অদূরভবিষ্যতে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
ব্র্যান্ড ফোরামের তথ্যমতে টিস্যু ক্যাটাগরিতে ব্র্যান্ডের দিক থেকে ভোক্তাদের পছন্দের তালিকায় বর্তমানে ফ্রেশ টিস্যু দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেডের যেসব পণ্য উৎপাদিত হয় সেগুলো হলো ফেসিয়াল টিস্যু, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়েল, কিচেন টাওয়েল, অল-পারপাস টাওয়েল, ক্লিনিক্যাল বেড শিট, ওয়ালেট টিস্যু, এমজি হার্ড টিস্যু, এমজি পোস্টার পেপার, ম্যানিফোল্ড পেপার, অ্যালু-ফয়েল পেপার।